You are currently viewing কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ, কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি?
কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ

কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ, কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি?

কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ, কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি?

আজকে আমরা কম্পিউটাররে বিভিন্ন শ্রেণি সম্পর্কে জানব।

আকার, সক্ষমতা, গতি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ

Classify of computer depending on Capability, Size, Speed etc.

আকার, সক্ষমতা, গতি ইত্যাদির উপর ভিত্তি কেরে ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-

১. সুপার কম্পিউটার

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার

৩. মিনি কম্পিউটার

৪. মাইক্রো-কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার ।

সুপার কম্পিউটার (Super Computer)

সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং ব্যায়বহুল কম্পিউটার। আকৃতি দিক হতে সর্ববৃহৎ এ শ্রেণির কম্পিউটারগুলোর তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা, কার্য সম্পাদন বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণের দ্রুততা অবশ্বাস্য রকমের। সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের কাজ করা যায়। সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযা ন, জঙ্গি বিমান এবং  ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। CRAY-1, CYBER-205 ইত্যাদি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ল্যাবে IBM RS/6000 SP মডেলের একটি সুপার কম্পিউটার রয়েছে।

মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)

মেইনফ্রেম কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি বড় কম্পিউটার যার সাথে টারমিনাল যুক্ত করে এক সাথে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে। বৃহদাকার মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সঙ্গে সহস্রাধিক ডাম্ব টার্মিনাল (Dumb Tarminal) ব্যবহার করা হয়। বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, বীমা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান এবং বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতার পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের জন্য মেইনফ্রেম কম্পিউটার প্রয়োজন হয়। UNIVAC 1100/01, IBM 4341, NCR N 8370 ইত্যাদি কম্পিউটার এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৬৫ সালে পরমাণু শক্তি কমিশন মইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপন করা হয়।

মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)

মিনি-কম্পিউটারকে মিনিফ্রেম কম্পিউটারও বলা হয়। মেইনফ্রেম কম্পিউটারের টেয়ে ছোট আকারের এ কম্পিউটর টার্মিনালের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে।

বৃহৎ শিল্প এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মিনি কম্পিউটারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকিং কার্যক্রমে এ ধরনের কম্পিউটার সচরাচর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। PDPII, IBM S/34, NCR S/9290 ইত্যঅদি মিনি কম্পিউটারের উদাহরণ। পাশের চিত্রে প্রথম সফল মিনিকম্পিউটার PDP-8 । Smithsonian’s National Museum of American History in Washington, D.C. থেকে মেশিনটি চালু অবস্থায় ডিসপ্লেসহ দেখা যাচ্ছে। আমেরিকার  ডিজিটাল ইকিইপমেন্ট কর্পোরেশন এ মেশিনটি তৈরি করে।

মাইক্রো-কম্পিউটার (Micro-Computer)

মাইক্রোকম্পিউটার হচ্ছে মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি বর্তমানে বহুলব্যবহৃত কম্পিউটার। সাধারণত একজন লোক একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে বলে মাইক্রোকম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পসি বলা হয়। এ জাতীয় কম্পিউটার সহজে বহনযোগ্য, দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।  ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক, দাপ্তরিক, সরকারি, সর্বোপরি বিনোদমূলক কর্মকান্ডে এ ধরনের কম্পিউটারগুলো ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। IBMPC, APPLE Macintosh ইত্যাদি মাইক্রো-কম্পিউটারের উদাহরণ।

 

পার্সোনাল কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের বিভিন্ন অংশের তালিকা ও পরিচিতি

List and Identify Different Parts of a Personal Computer & laptop

মাইক্রোপসেসরের উপর ভিত্তি করে বহুলপ্রচলিত মাইক্রো-কম্পিউটারকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা-

১. অ্যাপলে মাইক্রোকম্পিউটার (Apple Microcomputer)

২. আইবিএম বা আইবিএম কমপ্যঅটিবল মাইক্রেকিম্পিউটার (IBM or IBM Compatible Microcomputer)

নিচের এদরে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। যথা-

অ্যাপল মাইক্রোকম্পিউটার (Apple Microcomputer): ১৯৭৬ সালে স্টিভ জবস্ ও স্টিভ ওজনিয়াক মিলে Apple-1 কম্পিউটার তৈরি করেন এবং পরবর্তী বছল Apple Computer কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালের জুন মাসে এ কাম্পানি থেকে বের হয় Apple-II কম্পিউটার যা মাইক্রোকম্পিউটারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তে সূচনা করে। এগুলোতে  মটোরোলা কোম্পনির তৈরি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়। এ মাইক্রোপ্রসেসরেরর সিরিজগুলো হলো- 6800, 68000, 68040, 68100 ইত্যাদি। এ কম্পিউটারগুলো প্রকাশনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ধরনের কম্পিউটারের উদাহরণগুলো হরো- Apple-II, Apple Machintos, Classic ইত্যাদি।

কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ
কম্পিউটারের শ্রেণি বিভাগ

আইবিএম বা আইবিএম কমপ্যঅটিবল মাইক্রেকিম্পিউটার (IBM or IBM Compatible Microcomputer): ১৯৮১ সালের অগস্ট মাসের ১২ তারিখে আইবিএম কোম্পানি থেকে বের হয় আইবিএম ৫১৫০ মডেলের পার্সোনাল কম্পিউটার। এরত ইন্টেলের 8086 মাইক্রোপসেসর ব্যবহৃত হয়। একে আইবিএম পিসিও বলা হয়। আবিএম পিসি’র ব্যঅপক সফলতা দেখে অনেক কোম্পানি আইবিএমকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে আবিএম কমপেটিবল ক্লোন পিসি তৈরি করতে শুরু করে। প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতির সাথে সাথে মাইক্রো-কম্পিউটারের আকৃতিতে নানরকম পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের ব্যবহারিক সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন আকৃতির মাইক্রোকম্পিউটার বাজারে এসেছে। যেমন-

১, ডেস্কটপ কম্পিউটার

২. ল্যাপটপ কম্পিউটার

৩. নোটবুক কম্পিউটার

ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer)

ডেস্ক বা টেবিলে স্থাপন করে যে মাইক্রোকম্পিউটার ব্যবহার করা যায় তাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলে। বিভিন্ন রকম কাজে অফিস-আদালতে এ জাতীয় কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer)

ল্যাপ বা কোলের উপর স্থাপন করে  ব্যহার করা যায় এমন ছোট আকারের কম্পিউটারকে ল্যাপটপ বলা হয়। এরূপ কম্পিউটার দেখতে অনকটা ছোট ব্রিফকেসের মতো। ব্রিফকেসের মতো খুললে ল্যাপটপের উপরের অংশ সমতল এলসিডি স্ক্রিণ দেখা যায়। আর নিচের অংশে থাকে কী-বোর্ড, পাওয়ার বাটন এবং টাচপ্যাড। ল্যাপটপকে ভাঁজ করে রাখা যায়। ল্যাপটপ কম্পিউটার একটি হালকা বহনযোগ্য কম্পিউটার। ল্যাপটপ রিচার্জেবল ব্যাটারি বা এসি এডাপ্টারের সাহায্যে বিদ্যুৎ-এ চলে। এ কম্পিউটারে সিডিরম/ডিভিডিরমসহ মাল্টিমিডিয়া যুক্ত থাকে। ল্যাপটপ কম্পিউটারে ল্যানকার্ড যুক্ত থাকে এবং সিরিয়াল, প্যারালাল, ইউএসবি পোর্টসহ সমস্ত কমিউনিকেশন পোর্ট যক্ত থাকে।

নোটবুক কমিউটার (Notebook Computer)

নোটবুক কম্পউটার ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer) থেকে ছোট, সহজে বহনযোগ্য এক ধরনের ছোট পার্সোনাল কম্পিউটার। নাটবুক কুম্পিউটার এর ডিসপ্লে এলসিডি (LCD) হয়ে থাকে। নোটবুক কম্পিউটারের দাম ল্যাপটপের চেয়ে কম। সাইজ কমাতে গিয়ে এগুলোর কী-বোর্ড, স্ক্রিন ছোট করা হয়েছে এবং অপটিক্যাল ড্রাইভ বাদ দেয়া হয়েছে। এর পর্দার সাইজ ৫-১২ ইঞ্চি এর মধ্যে এবং ওজন ১ কেজির ওপর (২-৩ পাউন্ড) এর মধ্যে।

পামটপ কম্পিউটার (Notebook Computer)

পাম (Palm) অর্থ্যাৎ হাতের তালুর মধ্যে রেথে কাজ করা যায় এমন সাইজের কম্পিউটারকে পামটপ কম্পিউটার বলা হয়। একে পার্সোনাল ডিজটাল এ্যাসিটেন্ট বা PDA বা হ্যান্ড হেল্ড বা পকেট কম্পিউটার নামেও অভিহিত করা হয়। কম্পিউটারের বিভিন্ন আকৃতি মডেলের মধ্যে এ মডেলটি সবচেয়ে ছোট। ক্ষমতার দিক দিয়ে এটি নোটবুক বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক দুর্বল।

আরো তথ্য জানতে TimetoEdu এর সাথেই থাকুন।

Leave a Reply